1. multicare.net@gmail.com : সময়ের পথ :
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বড়পুকুরিয়ায় ঘরবাড়ী ফাটলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। আইবিএন শেয়ার হোল্ডারস মিটআপ রেদোয়ান আহমেদ। বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে ভাইরাল দৌলতপুরের ওসি রফিকুল নওগাঁর বলিহারে বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত খন্ডবিখন্ড,মরদেহ উদ্ধার এমপি আনারের,উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। খাজা শাহ্ নূর দরবেশ মৌলা (রহঃ) এঁর চন্দ্রবার্ষিকী ওফাত শরীফ উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শান্তির মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাজারো মানুষের ঢল লামার উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী আবারও চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল নতুন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন দুইজন নওগাঁয় ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে যুবকের আত্নহত্যা কুষ্টিয়া জেলা আ’লীগের সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মাটির পণ্য নিয়ে এ হাটে যাই ও হাটে যাই মেলায় বিক্রি করে উন্নতের দিকে যাচ্ছি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

মাটির পণ্য নিয়ে এ হাটে যাই ও হাটে যাই মেলায় বিক্রি করে উন্নতের দিকে যাচ্ছি
প্রান্তিকের ট্রেনিং করে স্বাবলম্বী দীনেশ পাল।

মোঃ শাহ্জাহান-সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এ উপজেলা প্রান্তিকের ট্রেনিং নিয়ে প্রায় ১ এক হাজার ১ শো ১০ জন নি¤œ আয়ের ৬ শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর লোকজন পাল্টে দিয়ে জীবনের সংসার। ট্রেনিং শেষে তার এককালীন ১৮ হাজার টাকা এবং কেউ কেউ সমাজ সেবার অধীনে লোন নিয়ে স্থিমিত জীবনের চাকা যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও আবহমানকাল থেকেই এ জনগোষ্ঠী অবহেলিত ও অনগ্রসর হিসেবে পরিচিত। অথচ প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এদের মাধ্যমে পরিচালিত। দৈনন্দিন জীবন থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ সর্বত্রই এরা বিরাজমান। বংশ পরম্পরায় এরা পেশাটি ধারণ করে নিজের জীবন জীবিকা পরিচালনা করছে। বর্তমান প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে এ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছে দিন দিন। প্রতিযোগিতায় হারার সাথে এরা তাদের আর্থিক উৎস থেকে ছিটকে পড়ছে। যার ফলশ্রুতিতে কর্মক্ষম মানুষগুলি দিন দিন বেকার হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সংস্পর্শে এনে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের বংশগত পেশাকে আধুনিকায়ন করে বেকারত্ব দূর করার কাজটিই করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীন উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়গুলো। তাছাড়া প্রযুক্তিগত অন্য কোন পেশায় প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের অন্তর্ভূক্ত করা যায় সেটিও হাতে কলমে শেখাচ্ছে সমাজসেবা অফিস। এসব শ্রেণী পেশার মানুষগুলো কারিগরী জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে আধুনিক বাংলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুযোগ পেয়ে নবজীবন লাভ করছে। ফিরে আসবে গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জোয়ার। পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের সাথে সাথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ । এ চিন্ত ধারণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বলতে কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ ও বেত প্রস্তুকারক, কাঁশা/পিতল প্রস্তুতকারী এবং জুতা মেরামত/প্রস্তুতকারী এ ছয়টি পেশা ধারণ করে যে সকল পরিবার বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করছে।

সরেজমিনে পালপাড়ার কুমার পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে সামনের দুর্গাপূজার বিভিন্ন মেলায় মাটির তৈরী কারুপণ্য তৈরীতে ব্যস্ত তারা।
পাল পাড়ার দীনেশ পাল দৈনিক জানান, আমরাত মাটির তৈরী জিনিস পত্র তৈরী করাই বন্ধ করে দিছিলাম কিন্তু কালীগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার আমাদের তিন ভাইকেসহ বহু লোককে ট্রেনিং করায়। আর ট্রেনিং শেষে আমাদের এককালীন ১৮ হাজার টাকা ও ট্রেনিংয়ে যাতায়াত বাবদ ৫ হাজার করে মোট ২৩ হাজার করে টাকা দিলে আমরা আগ্রহী হয়ে আবারও নতুন উদ্দমে কাজ শুরু করেছি। ১৮ হাজার টাকা কিছু না হলেও আমাদের কিছু জোগার করা অর্থ দিয়ে সামনের পুজার মেলাতে অনেক জিনিস তৈরী করেছি। আশা করি ভাল ব্যবসা হবে আমাদের। তাছাড়া জিনিস পাতির যে দাম তাতে পোশায় না। সমাজ সেবা হতে সহজ শর্তে ঋণ নেয়ারও চেষ্টা করছি। এ পেশা তো আমাদের বাপ দাদার ঐতিহ্য তাই আমাদের ধরে ত রাখাই লাগবে।

তিনি আরো বলেন, এসব পণ্য আমরা অনেক দুর হতে নিয়ে আসি ট্রাকে করে। সেকারনে অনেক খরচ পড়ে যায়। তাই সরকার যদি আমাদের আরো সহকারীভাবে সহযোগিতা করেন তাহলে আমরা অনেক ভাল ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারব।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৬ শ্রেণির মানুষ ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের বিভিন্ন সময়ে ট্রেনিং করিয়ে এককালীন ১৮ হাজার টাকা দেয়া হয় যা দিয়ে তারা নতুন উদ্দমে কাজ করতে আগ্রহী হয়। আমরা কয়েকটি অর্থ বছরে ১ হাজার ১ শো ১০ জনকে ট্রেনিং দেই। তাদের মধ্যে কামার, কুমার, ধোপা, বাঁশ ও বেত, নর সুন্দর এবং কাশা/পিতল মোট ৬শ্রেণীর জনগোষ্ঠীকে ট্রেনিং করানো হয়। এছাড়াও অনেককে সহজ শর্তে ঋণ দিয়েও সহযোগিতা করা হয়। যা দিয়ে তারা তাদের পুজি যোগান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

বিশেষ করে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় বাঁশ ও বেত শিল্পের তৈরি বিভিন্ন জিনিস এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। অভাবের তাড়নায় এই শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছেন। তবে শত অভাব-অনটনের মাঝেও উপজেলায় হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈত্রিক এই পেশাটি ধরে রেখেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

আরো লেখাসমূহ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় : ইয়োলো হোস্ট